এই ১৫ বাঙালি কি পারবে এই অবহেলার জবাব দিতে, যেমন দিয়েছিল রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা, ১৯৯৬ এ? © AFP
এই ১৫ বাঙালি কি পারবে এই অবহেলার জবাব দিতে, যেমন দিয়েছিল রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা, ১৯৯৬ এ? © AFP

বেজে উঠেছে বিশ্বকাপ ২০১৫র দামামা। ষোলো কোটি মানুষের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আরও একবার বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছে পনেরো বাঙালি। মশরফে মোর্তাজা, শাকিব অল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা পারবেন তাদের আশা পূরণ করতে? বিস্তারিত জানুন সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবেদনে।

সন ১৯১১। বণিকের মানদণ্ড তখন রাজদণ্ডে পরিণত। ভারতবর্ষে চলছে ব্রিটিশরাজ। সর্বক্ষেত্রে তখন ভারতীয়রা উপেক্ষিত, বঞ্চিত। এমত প্রেক্ষাপটে, অবিভক্ত বাংলার ক্রীড়ঙ্গনে প্রথম উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়। মোহনবাগানের এগারো বাঙালি ফুটবলার ঈস্ট ইয়র্কশায়র রেজিমেন্টকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য ছিনিয়ে নিয়েছিল আইএফএ শীল্ড।

সন ২০১৫। আবার বিশ্বের আঙিনায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত ১৫ বাঙালি। টেস্টে সুযোগ পাওয়ার পনেরো বছর পরেও বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশ বঞ্চিত, অবহেলিত। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে ডাকতে অধিকাংশ দেশ এখনও দ্বিধাবোধ করে, ডাকলেও দ্বিতীয় সারির দলের মতো ব্যবহার করে। বাংলাদেশ আজও ভারতের মাঠে টেস্ট খেলেনি। এই ১৫ বাঙালি কি পারবে এই অবহেলার জবাব দিতে, যেমন দিয়েছিল রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা, ১৯৯৬ এ?

এবার বিশ্বকাপের আসর বসেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। অস্ট্রেলিয়া বলতেই মাথায় আসে গতি ও বাউন্স, নিউজিল্যান্ড বলতেই সুইং ও সীমের কারিকুরি। এমত উইকেটে বাংলাদেশের মত দলকে কেউ গুরুত্ব দিতে নারাজ, কিন্তু এই অবহেলাই শাপে বর হতে পারে মশরফে মোর্তাজার দলের জন্য। কিন্তু কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেট মরশুম শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ, সুতরাং ফেব্রুয়ারি-মার্চে যখন বিশ্বকাপের আসর বসবে, তখন সেখানকার পিচ এত গতিশীল হবে না। বরং স্পিনাররা মদত পাবে তুলনামূলক মন্থর উইকেট থেকে। সদ্যসমাপ্ত অস্ট্রেলিয়া-ভারত টেস্ট সিরিজেও আমরা বরং দেখেছি অফস্পিনার নেথান লায়নকে প্রায় একা হাতে এডিলেড টেস্ট জেতাতে। বিগ ব্যাশ লীগে শাকিবের বর্তমান পারফর্মেন্স দুর্দান্ত, যা বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রাখবে। আর বল যদি ঘোরে, বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা বোকামির সামিল।

বাংলাদেশের স্পিন ব্রিগেড বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা। শাকিব ছাড়াও রয়েছে তাইজুল ইসলাম, আরাফত সানি, এবং মাহমুদউল্লাহ্‌। একটু স্পিনসহায়ক উইকেটে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে বিপর্যস্ত করার জন্য এই লাইন-আপ যথেষ্ট। বাংলাদেশের পেস আক্রমণও সমীহ করার মত। অধিনায়ক মোর্তাজা ছাড়াও আছে প্রতিভাবান রুবেল হোসেন, তাস্কিন আহমেদ, অল্‌-অমীন হোসেন।

তবে বাংলাদেশের প্রধান শক্তি তাদের ব্যাটিং। শুরুতে তামিম ইকবাল ও আনামুল হক; ওপেনিং জুড়ির ওপর বাংলাদেশের জয়-পরাজয় অনেকটাই নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে তামিমকে সহজাত আক্রমণাত্মক মেজাজকে হয়ত খানিকটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মিড্‌ল্‌-অর্ডারকে সামলানোর দায়িত্ব মোমিনুল হক, শাকিব, ও মুশফিকুর রহিমের কাঁধে। আর স্লগ ওভারে নাসির হোসেন, শাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার তো রয়েইছে।

এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ কেমন “বাংলা-ওয়শ” করেছিল, মনে আছে? এই দলই হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ও ইংল্যান্ডকে। লড়াই হয়ত কঠিন হবে, কিন্তু আশার আলো তো রয়েছে! তাছাড়া আগুনে না গলে তো লোহা হওয়া যায় না!

Bangladesh Squad for ICC World Cup 2015

মশরফে মোর্তাজা (অধিনায়ক), শাকিব অল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), তামিম ইকবাল, আনামুল হক, মোমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ্‌, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, তাস্কিন আহমেদ, অল্‌-অমীন হোসেন, রুবেল হোসেন, সৌম্য সরকার, শাব্বির রহমান, আরাফত সানি।

(Sandipan Banerjee is a reporter at CricketCountry. Cricket has been the biggest passion for him since his childhood. So, when it came to choosing his career, he chose to turn his passion into his profession. Apart from cricket he likes mountain trekking, river rafting, and photography. His twitter handle is @im_sandipan)