March 9, 2015. This date will be written in golden words in the history of Bangladesh cricket as Mashrafe Mortaza and co. earned their place in last eight stages of ICC Cricket World 2015 following a historic win against England © Getty Images
March 9, 2015. This date will be written in golden words in the history of Bangladesh cricket as Mashrafe Mortaza and co. earned their place in last eight stages of ICC Cricket World 2015 following a historic win against England © Getty Images

আজ্ঞে না স্যার। বাঙালিকে চিরকাল ভুঁড়ি আর ল্যাদের প্যারামিটারে মাপবেন, তা হতে পারে না। কথায় কথায় রবীন্দ্র-নজরুলের প্লাস্টিক বাতেলা ঝাড়া আর টেবিল চাপড়ে চা-তেলেভাজায় মৌজ করার বাইরেও আমরা আছি। একুশের স্যালুট মেরে আর কালচারের জার্সি পরে কাটিয়ে দেব যদি ভেবে থাকেন,তবে ভুল ভেবেছেন। Bangladesh beat England by 15 runs: Twitter reactions

একা সৌরভের জামা খোলা মাদুলি শো আর নয়। এগারো পিস্‌ বাঙালি মাঠে নেমে সাহেবদের কাঁচকলা দেখিয়ে দুরমুশ করলে; দিস ইজ নট অনলি টেরিফিক, দিস ইজ ইলিশিফিক। গতকাল ইংল্যান্ডকে অল্প ঝাল ফুচকার মত বেমালুম গিলে ফেলে ঢেঁকুর তোলারও প্রয়োজন করলে না মোর্তাজার তাজা দলখানা। হেলায় কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন তামিম, ব্যাটে ও ফিল্ডিংএ ঝুলিয়েও। ব্যাট হাতে নাইট শাকিব ব্যর্থ হলেও, টুইটারের #বাংলাদেশকোয়ার্টারফাইনালেউঠলে গোছের বাংলা হ্যাশট্যাগকে ব্যর্থ হতে দিলেন না মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকুর। READ: Bangladesh vs England match report

এই জাতীয় হ্যাশট্যাগগুলি টুইটারে দুরন্ত ভাবে সরব ছিল ম্যাচের আগের দিন থেকেই। বিভিন্ন মানতের আত্মপ্রত্যয়ে রঙিন হয়ে উঠছিল। কেউ বলছেন বাংলাদেশ কোয়ার্টারে উঠলে তিনি বুকে পাথর রেখে বিয়ে করবেন, তো কেউ বলছেন নতুন প্রেম করা শুরু করবেন। বিভিন্ন বাঙালি তুকতাকে টুইটার তুঙ্গে ছিল ম্যাচের আগে ও ম্যাচের সময়।  READ: Mahmudullah-Mushfiqur record partnership

এমনিতেই গোটা বাংলাদেশের হাত নিশপিশ করছিল অস্ট্রেলিয়াকে উচিত শিক্ষা না দিতে পেরে (তাও আবার একুশে ফেব্রুয়ারি); ব্যাটাগুলো স্রেফ বৃষ্টির জন্যে বেঁচে গেল। অস্ট্রেলিয়াকে গাঁট্টা মারতে না পারার যে চাপা আগুন বাংলার বাঘেদের বুকে জমে ছিল, তাতে যে ইংল্যান্ড ভস্ম হয়ে যাবে, সে আশঙ্কা ছিলই। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি করে মাহমুদল্লাহ্‌ সে পথ প্রশস্ত করলেন। প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে মুশফিকুরের সাথে এমন জায়গায় বাংলাদেশের ইনিংস টেনে নিয়ে গেলেন মাহমুদল্লাহ্‌, যে মনে হচ্ছিল তিনশো পকেটে। শেষ পর্যন্ত মাত্তর দু’শো পঁচাত্তরে ইনিংসের ইতি টানায় চাপে ছিল বাংলাদেশ। এ বিশ্বকাপে যে খুনে ভঙ্গিতে ব্যাটসম্যানের রান তুলেছে, মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড পার পেয়ে যাবে। READ: Mahmudullah becomes first Bangladeshi centurion at World Cup

কিন্তু রুবেল ভাবছিলেন রেবেলের কথা। মোর্তাজা ভাবছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের বলবেন তোরা “মরতে যা”। আরাফাত সানি বিলেতের শনির দশা দেখতে পেয়েছিলেন গোড়াতেই। শাকিবের ভাবভঙ্গী দেখে মনেই হচ্ছিল যে সাহেবদের ব্যাটিং দেখে তিনি বারবার বলছেন “আর হাসান কেন দাদা”।  টাস্কিনও নিজের টাস্কে কোন গোলমাল করেননি। হেল্‌সসাহেব আউট হওয়ার পর দুদ্দাড় উইকেট পড়ে সেই যে মর্গানদের মরোমরো অবস্থা হল, তা থেকে আর তারা বেরিয়ে আসতে পারলেন না। মোর্তাজা-রুবেলের উজাড় করে দেওয়া বোলিংয়ের সাথে শাকিবের সাঁড়াশিতে ঠাণ্ডা মেরে গেলে ইংল্যান্ড। বাটলার বাটপাড়ির তাল করছিলেন, তবে সে গুড়ে বালি পড়তেই হত।

বাঙালি জেগেছে যে। বাঙালি সহজে জাগে না। সহজে না জাগার অভ্যেসটুকুই বাঙালিকে বাঙালি করে রাখবে। আর বাঙালি যখন জাগে, তখন দুধে মাখা ল্যাংড়া আমের সুবাস ছাড়া কোন কিছু জন্যেই আটকে পড়ি না। মিনিটখানেক হয়তো লুচির জন্য আটকে পড়তে পারে; অথবা ইয়ে, হয়তো মাটন কষার জন্য। তবে গতকাল আটকে পড়ার দিন ছিল না। গতকাল ছিল উৎসবের দিন। এপার বাংলাতেই তখন ঘটি-বাঙাল নির্বিশেষে সবাই “আমাগো টিম, আমাগো টিম” করে সেমি-ডিগবাজি খাচ্ছে। ওপারের আনন্দ-ফূর্তির অবস্থা যে ঘূর্ণিঝড়ের মত হবে, সেটা বলাই বাহুল্য।

ক্রিকেট কান্ট্রির তরফে চেষ্টা করলাম ওপারের উৎসবের একটু আঁচ পেতে। অনলাইন যোগাযোগের চেষ্টা করলাম কিছু ওপারের ইয়ার-দোস্তদের সাথে। বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের হুঙ্কারে স্রেফ ভেসে যেতে হল। অন্য ক্রিকেট দলগুলোর জন্য কিছু বক্তব্য আছে কি না, সহজ প্রশ্ন রেখেছিলাম তাদের কাছে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন জানালেন যে সেখানকার মেজাজ এখন কী রকম জম্পেশ।

শফিকুল ইসলাম (ক্রিকেটার নন, ইনি অন্য) বললেন বাকি টিমগুলোর উদ্দেশ্যে “পুত কইরা দিমু আমি পুত কইরা দিমু, পুত কইরা দিলে তোরা ধ্বংস হইয়া যাবি, পাক ঘরে গিয়া পোলাও কোর্মা রাইন্ধা খাবি”। (মানে জিজ্ঞেস করে লজ্জা দেবেন না, জাস্ট এনজয়)।

অন্য সব দেশকে সোজা বার্তা দিলেন মোরশেদ “ধরে দিবানি”।

নিজেদের সাফল্যের ব্যাখ্যা দিলেন ফর্জানা – “আমরা মানুষের বদলে মাঠে বাঘ ছেড়ে দিসি”।

সিলেট থেকে বৃষ্টিপ্রেমী রেজওয়ান হুংকারে বললেন “খাইয়া দিমু মামা”।

মহম্মদ জিহান সিদ্দিকী করবো লড়বোর সুরে গেয়ে ফেললেন “আইলো আইলো আইলো রে, আইলো আইলো রে, আইলো রে, টাইগার রে”।

প্রতিপক্ষদের প্রতি ঢাকার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার জয়ের সোজাসাপ্টা বক্তব্য “মাথা নিচু করে সালাম দে, নয়তো বাঘের থাবা খাবি”।

ব্লগার হিমু মনে করেন মোর্তাজাদের এখন অন্য সব দলকে বলা উচিৎ “আইতাছি খাড়া”।

টুর্নামেন্টের সমস্ত বোলারদের টুটুল কনফিডেন্টলি বলছেন বাংলাদেশের সমস্ত ব্যাটসম্যানের হয়ে “পিডায়া সবটিরে হুতায়ালবাম”।

সিডনি থেকে বাংলার হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ফয়সাল, তিনি মর্গানসাহেবদের উপদেশ দিয়েছেন “তোমরা বয়কটবাবুর মায়ের সাথে ক্রিকেট খেল বরং বাছা”।

সহজ কথা হল, বাঙালির কলজে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। আমার ছোটমামা গতকাল ম্যাচের উত্তেজনা বয়ে রাত তিনটে পর্যন্ত পায়চারী করেছেন আর ছোটমামি শুতে ডাকলেই চড়া গলায় বলে উঠেছেন “আমার বাপ বরিশালের, আমার মা ঢাকার। আমার সঙ্গে খিল্লি করলেই কাইট্যা ফেলুম”।

সহজ কথা। হুজুগ একবার জাপটে ধরলে বাঙালির আর রক্ষে নেই। আমাদের উত্তরণটুকুও হুজুগেই। টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে অনেকদিন ছিনিমিনি হল। এবার হিসেব বুঝে নেওয়ার সময় ভাই বাংলাদেশ। একুশের কসম, অন্তত তেইশের বিশ্বকাপ ঢাকার হোক।

পুনশ্চ – আমার বন্ধুবর ও সহ-ব্লগার শঙ্খদীপ নরম সুরে সেদিন বললেন “বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভালো খেলবে না কেন? আফটার অল, ক্রিকেট আর ইলিশ, দু’টোতেই গুড লেন্থটা খুব ইম্পরট্যান্ট”।

ICC Cricket World Cup 2015: Complete Coverage

(Tanmay Mukherjee is a Bengali blogger who loves the internet, food, cricket and Kolkata, and is keen on compiling trifles)